Motorola Edge 50 Fusion Review – যেনে নিন খুঁটিনাটি সব বিষয়

Untitled design 4
128 GB/ 256 GB/ 512 GB
8GB/ 12 GB
50+13 MP
32 MP
6.7” 1080×2400 p
5000 mAh

Motorola Edge 50 Fusion হল একটি মধ্য-রেঞ্জের ফোন যা ২০২৪  সালের ১৬ ই এপ্রিল লঞ্চ হয়েছিলো। পরে তা ২০২৪ সালের ১৫ মে থেকে বাজারে রিলিজ হয়। এই স্মার্টফোনের রয়েছে নান্দনিক ডিজাইন, শক্তিশালী পারফোরম্যান্স এবং ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি করার জন্য দুর্দান্ত ক্যামেরা। 

Motorola Edge 50 Fusion এর সবচেয়ে বড় স্পেশালিটি হলো এটি অতিরিক্ত স্লিম যা খুব সুন্দর এবং প্রিমিয়াম লুক দেয়। আর ওজনে হালকা হওয়ায় এটা ধরে রাখতে সহজ হয়। তাছাড়া এর কার্ভড প্যানেল এবং সিমিট্রিক্যাল বেজেল এর কারণে এটি দারুন আকর্ষণীয়। ডিভাইসে রয়েছে  ৬.৭ ইঞ্চি OLED ডিসপ্লে, যা মসৃণ এবং জীবন্ত ভিজ্যুয়াল প্রদান করে। এর স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা এবং কালার রিপ্রোডাকশন ব্যবস্থা হাই কোয়ালিটি যা দামের মধ্যে সেরা মানের নিশ্চয়তা প্রদান করে। 

Motorola Edge 50 Fusion এর চিপসেট Qualcomm Snapdragon 7 Gen 3 দ্বারা চালিত, যা দৈনন্দিন কাজ এবং গেমিংয়ের জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী। আর এটা Android 14 অপারেটিং সিস্টেমে ভিত্তি করে হ্যালো UI প্রদান করে, যা ব্যবহারকারীদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল এবং সহজ অভিজ্ঞতা তৈরি করে। ডিভাইসটি সম্পূর্ণভাবে ধুলা এবং ময়লা প্রতিরোধে সক্ষম, যা বিশেষ করে ধূলিময় পরিবেশে ব্যবহারকারীর জন্য উপকারী।

এই ডিভাইস টি বিভিন্ন স্টোরেজ ও RAM ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যায় আর স্টোরেজ টাইপ উন্নত প্রযুক্তি সমন্বিত যা ফোন টিকে শক্তিশালী এবং দ্রুত কাজ করতে সক্ষম করেছে। 

এতে রয়ে ডুয়েল ক্যামেরা সেট আপ যার প্রধান ক্যামেরায়  50MP এর সেন্সর রয়েছে যা একটি 13MP আল্ট্রা-ওয়াইড সেকেন্ডারি সেন্সরের সাথে যুক্ত। আর সামনের ক্যামেরাটি 32 MP এর যা দারুণ সেলফি ও ভিডিও কলে উন্নতভিজ্যুয়ালিটি দিয়ে থাকে।

Motorola Edge 50 Fusion এ রয়েছে ৫,০০০mAh এর একটি শক্তিশালী  ব্যাটারি । তাছাড়া এটি মটোরোলার 68W টার্বোপাওয়ার চার্জিং ব্যবস্থা  সাপোর্ট করে। 

তাছাড়া এতে রয়েছে উন্নত AI ফিচার, শক্তিশালী সিকিউরিটি সিস্টেম যা ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা আরো উন্নত করে এবং গুরুত্বপুর্ণ ডাটার নিরাপত্তা দেয়। এর ডিজাইন অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং বাটন সজ্জা খুব বেশি স্ট্যান্ডার্ড। অডিও ভিডিও পারফোরম্যান্স ও চমৎকার। Motorola Edge 50 Fusion একটি আদর্শ স্মার্টফোন  যা স্টাইল ও পারফোরম্যান্সের উপযুক্ত কম্বিনেশন প্রদান করে। 

বক্স কন্টেন্টে যা যা থাকবে

  • একটি সিম ইজেক্টর টুল
  • মোবাইলের সাথে সুন্দর একটা কেসিং 
  • ৬৮ ওয়াটের একটি চার্জার
  • একটি টাইপ সি ক্যাবল

সুবিধা

  • হালকা ওজন এবং পাতলা নকশা, যা দারুণ আরামদায়ক।
  • 144Hz রিফ্রেশ রেট সহ P- OLED ডিসপ্লে, যা উজ্জ্বল এবং খুব মসৃণভাবে কাজ করে।
  • দ্রুত চার্জিং সুবিধা, বিশেষ করে চার্জ বুস্ট ফিচারের জন্য।
  • হ্যালো UI পরিষ্কার এবং ব্যবহার সহজ।
  • খুব ভালো স্টেরিও স্পিকার।
  • চমৎকার শীতল এবং তাপ আচরণ.
  • সলিড অল-রাউন্ড ক্যামেরা পারফরম্যান্স।

অসুবিধা

  • এই দামে আরও ভালো বিকল্প পাওয়া যেতে পারে।
  • HDR সাপোর্ট  নেই।
  • Type-C এর উপর কোনো তারযুক্ত ভিডিও আউটপুট নেই।
  • এতে কোন ওয়ার্লেস সাপোর্ট নেই।
  • সেলফি ক্যামেরা দিয়ে ল্যান্ডস্কেপ বোকেহ শট তোলা সম্ভব নয়।

Motorola Edge 50 Fusion  স্মার্টফোন যুক্তিসঙ্গত দামে দুর্দান্ত বৈশিষ্ট্যসহ একটি স্মার্টফোন।  এই স্মার্টফোন টি বর্তমানে বাজারের অন্যান্য স্মার্ট মোবাইলের সাথে প্রথম সারির প্রতিযোগী হিসেবে বিবেচিত। এর উন্নত বৈশিষ্ট্য এবং মিড রেঞ্জ অফার মোবাইল প্রমীদের কাছে আকর্ষণের মূল কারণ।

পারফরমেন্স

Motorola Edge 50 Fusion  একটি উন্নত কার্যক্ষমতার মোবাইল ফোন যা মোটামুটি শক্তিশালী পারফোরম্যান্স নিশ্চিত করে। এর Hello UI, স্টাইলিশ ফিচার, এবং দীর্ঘমেয়াদি আপডেট প্রতিশ্রুতি ফোনটিকে একটি শক্তিশালী পছন্দ করে তুলেছে। 

এর চিপসেটে Qualcomm এর Snapdragon 7s Gen 2 প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও এটা ফ্ল্যাগশিপ প্রসেসর নয়, এটা একটা মিড রেঞ্জ টাইপ প্রসেসর, তবে এই মোবাইল ফোনের পারফোরম্যান্সে অনেক উন্নত এক্সপেরিয়েন্স পাওয়া যায়। কারণ মটোরোলা এতে খুব ভালো সফটওয়ার অপ্টিমাইজেশন করতে পেরেছে, যা পূর্বে ছিলো না। 

Motorola Edge 50 Fusion এর চিপসেট একটি আধুনিক চিপসেট, যা 4nm প্রোডাকশন প্রক্রিয়ায় তৈরি। এই চিপসেটটি 8-কোর (Octa-core) প্রসেসর সমন্বিত, যার মধ্যে 2টি কোর 2.4 GHz পর্যন্ত এবং বাকি 6টি কোর 1.8 GHz পর্যন্ত চলে। এটি একটি শক্তিশালী এবং আধুনিক মিড-রেঞ্জ প্রসেসর, যা উচ্চ পারফরম্যান্সের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। গেমিং, মাল্টিটাস্কিং এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত কার্যকরী চিপসেট।

পূর্বসূরী ডিভাইস Edge 40 এর চিপসেট MediaTek Dimensity 8020, উভয় ডিভাইসেই Cortex-A78 এবং Cortex-A55 কোর ব্যবহৃত হয়েছে, তবে ক্লক স্পিডে কিছু পার্থক্য রয়েছে। Edge 40 এর ক্লক স্পিড  উচ্চতর হলেও 4nm চিপসেট প্রযুক্তি হওয়ায়  Edge 50 Fusion ডিভাইস টি অধিক   কর্ম দক্ষ এবং তাপ নিয়ন্ত্রণ বৈশিষ্ট্য প্রদান করে। যা ব্যবহার কারীর জন্য বেশ সুবিধাজনক। 

Motorola Edge 50 Fusion  স্মার্টফোনে Android 14 অপরেটিং সিস্টেম (OS) রয়েছে।  যেখানে আগের মডেল  Edge 40 এ Android 13, অপারেটিং সিস্টেম অফার করে। Edge 50 Fusion ভবিষ্যতে Android 15 সহ আরও ৩টি প্রধান অ্যান্ড্রয়েড আপডেট পাবে। অর্থাৎ, এই ডিভাইসটি পরবর্তীতে আরো ৪টি মেজর অ্যান্ড্রয়েড আপডেট পাবে।  

তাছাড়া এই চিপসেটের সাথে    GPU রয়েছে, যা ভালো গ্রাফিক্স পারফরম্যান্স দিয়ে থাকে। 

 Motorola Edge 50 Fusion-এর ব্যবহারকারীরা স্টক অ্যান্ড্রয়েডের মতো পরিচিত ইন্টারফেস উপভোগ করেন, যা সহজ এবং পরিচ্ছন্ন। তবে, এতে পর্যাপ্ত কাস্টমাইজেশন অপশন রয়েছে, যা ব্যবহারকারীর পছন্দ অনুযায়ী ডিভাইসটি অপ্টিমাইজেশন করার সুযোগ দেয়। ডিভাইসটির 144Hz রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে এবং শক্তিশালী অপারেটিং সিস্টেমের সমন্বয়ে, এটি অত্যন্ত মসৃণ পারফরম্যান্স প্রদান করে। 8GB বা 12GB RAM এবং UFS 2.2 স্টোরেজের উপস্থিতি ডিভাইসটির কর্মক্ষমতাকে আরও উন্নত করে, যা ফ্ল্যাগশিপ মোবাইলের সাথে তুলনীয়। ফলে, ব্যবহারকারীরা সোশ্যাল মিডিয়া ব্রাউজিং, মিডিয়া এনজয় বা গেমিং-এর মতো দৈনন্দিন কাজগুলো নির্বিঘ্নে করতে পারেন।

Edge 40 এ  Mali-G77 MC9  গ্রাফিক্স পারফরম্যান্স থেকে উন্নত অভিজ্ঞতা প্রদান করে। তাছাড়া এটি গেমিং এবং গ্রাফিক্যালি ইন্টেনসিভ অ্যাপ্লিকেশনগুলোতে স্বচ্ছ এবং স্মুথ পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে। যদিও এটি উচ্চ গ্রাফিক্সের গেমের জন্য খুবই শক্তিশালী না হলেও, সাধারণ গেমিং এবং মিডিয়া কনজাম্পশনের জন্য উপযুক্ত।

ডিজাইন

Motorola Edge 50 Fusion-এর পাতলা, হালকা এবং প্রিমিয়াম ডিজাইন, বিভিন্ন রঙ  ও টেক্সচারের অপশন এবং টেকসই নির্মাণশৈলী ডিভাইসটিকে বাজারের অন্যান্য স্মার্টফোনের তুলনায় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য করে তোলে।

Edge 50 Fusion-এর নির্মাণশৈলীও প্রশংসনীয়।  এর বডি 7.9 মিমি যা খুবই পাতলা এবং 174.9 g ওজন, যার ফলে এক হাতে ক্যারি এবং পকেটে বহন করা সহজতর হয়।  তাছাড়া এর IP68 ধুলো এবং জল প্রতিরোধের রেটিং দৈনন্দিন ব্যবহারে ডিভাইসটিকে টেকসই করে তোলে।  

Edge 50 Fusion এর পিছনে টেক্সচারযুক্ত ভেগান লেদার ব্যাক রয়েছে, যা ডিভাইসটিকে প্রিমিয়াম লুক এবং অনুভূতি প্রদান করে। ভেগান লেদার হওয়ায় এটি ফোনের পিছনে নরম স্পর্শ দেয় এবং হাতে পিচ্ছিল কম লাগে। তবে ময়লা হয়ে যাওয়ার একটা আশঙ্কা থাকে। সে ক্ষেত্রে কেস ব্যবহার করা উপযুক্ত। এই মোবাইল টি এতোই স্লিম এবং মিনিমালিস্টিক যে কেস ব্যবহারেও খুব একটা অসুবিধা হবে না বা ভারী বোধ হবে না। 

এর উপরের অংশে গ্লাসের ফিটিং যা মোবাইলকে প্রিমিয়াম লুক দিয়েছে এবং এর ফ্রেম প্লাস্টিকের যা ডিভাইসের ওজন কম রাখে এবং মজবুত কাঠামো প্রদান করে। তবে কিছু ক্ষেত্রে চিপ লুক মনে হতে পারে এর প্লাস্টিক ফ্রেমের সাথে বাটন সজ্জার কারণে। একপাশে নীচে পাওয়ার বাটন ও উপরে ভলিউম বাটন গুলো খুব স্লিম এবং প্লাস্টিকি ফিল দেয় হাতে। যে কারণে এর প্রিমিয়ানেস এখানে কিছুটা কম লাগতে পারে। 

ডিভাইসের উপরিভাগে একটি ছোট সেলফি ক্যামেরার কাট আউট রয়েছে যা 32 মেগা পিক্সেলের। ব্যাক সাইডে একটি ইউনিক মটোরোলা লোগো রয়েছে যার কারণে এটি কোম্পানির নিজস্বতা ক্যারি করে। এর ডুয়েল ক্যামেরা সিস্টেম অন্যান্য কিছু মিড-রেঞ্জ ফোনের মতো নয়, যেখানে ক্যামেরা সেন্সর রিংগুলি ফোনের বডি থেকে বেরিয়ে আসে, Edge 50 Fusion-এর ক্যামেরা ডিজাইন প্রায় সমতল, যা ডিভাইসটিকে আরও মার্জিত করে তোলে। ক্যামেরার দুটি একটা মেইন সেন্সর অন্যটি আল্ট্রাওয়াইড সেন্সর, সাথে একটি ফ্ল্যাশ লাইট রয়েছে। 

আর নীচের দিকে রয়েছে একটি সাউন্ড স্পিকার যা খুব লাউড স্পিকার প্রডিউস করতে পারে। আর রয়েছে টাইপ সি চার্জিং পোর্ট, যা দ্বারা 68 W পর্যন্ত ফাস্ট চার্জিং করা যায়। তাছাড়া রয়েছে একটি সীম স্লট, যেখানে ডুয়েল ও ফিজিক্যাল সিম ব্যবহার করা যায়। 

Motorola Edge 50 Fusion তিনটি ভিন্ন কালারে পাওয়া যায়। এগুলো হলো ফরেস্ট ব্লু, মার্শম্যালো ব্লু, হট পিঙ্ক। কালার গুলো আভিজাত্য, নান্দনিকতা ও ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে।

ডিসপ্লে

Motorola Edge 50 Fusion এর সবচেয়ে ভালো দিক হলো হলো এর ডিসপ্লে। এর  3D কার্ভড ডিজাইন সহ 6.7 ইঞ্চি ডিসপ্লে রয়েছে আর এই ডিসপ্লে হচ্ছে  P-OLED  এর।  এই ডিভাইস টি মিড রেঞ্জের ফোন হলেও ডিসপ্লের কারণে একটি ফ্ল্যাগশিপ টাইপের অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। 

এই স্মার্টফোনের ইন্টারন্যাশনাল ভ্যারিয়েন্টে রিফ্রেশ রেট 144 Hz। তবে এটিতে HDR সাপোর্ট নেই। Motorola Edge 40- HDR সাপোর্ট থাকলেও ব্রাইটনেস কম ছিলো। 

তবে এতে বড় কোন সমস্যা হবে না। কারণ Motorola Edge 50 Fusion এর  ব্রাইটনেস 1600 নিট পর্যন্ত সর্বোচ্চ, যা সরাসরি সূর্যালোকে ব্যবহার উপযোগী করে তোলে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এর ডিসপ্লের কালার খুব সুন্দর, যা সাইড থেকে দেখতে খুব দুর্দান্ত  লাগে। কার্ভ ডিসপ্লে হলেও অন্যান্য টাচ স্ক্রিন মোবাইলের থেকে পাম রিজেকশান উন্নত। যার কারণে এক হাতে ধরে ব্যবহার করলেও কোন রকম মিস টাচ হয় না। মুভি অথবা গেমিং এর সময় একটি সিমলেস অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। 

ডিসপ্লের চারপাশে ন্যারো চিন বেজেল রয়েছে, তবে উপরের এবং নীচের অংশ কিছুটা মোটা দেখা যায়। এর প্রটেকশানে রয়েছে Corning Gorilla Glass 5, যা একটু যত্ন সহকারে ব্যবহার করা উচিত হবে। তাছড়া ডিসপ্লের একটু নীচের দিকে আনলক করার জন্য আপটিক্যাল ফিঙ্গার প্রিন্ট  রয়েছে যা খুব ফাস্ট এবং একুরেট কাজ করে। তাছাড়া ফেস আনলক সিস্টেম ও রয়েছে, তবে প্রপার লাইট ছাড়া তেমন কাজ করে না।

হার্ডওয়্যার এবং স্টোরেজ

Motorola Edge 50 Fusion তার শক্তিশালী হার্ডওয়্যার এবং উন্নত স্টোরেজের জন্য বাজারের অন্যতম সেরা স্মার্টফোন হিসেবে বিবেচিত হয়। এতে কোয়ালকম এর Snapdragon 7s Gen 2 ব্যবহৃত হয়েছে, যা উন্নত কর্মদক্ষতা এবং চমৎকার গেমিং অভিজ্ঞতা প্রদান করে। এই চিপসেটের সাথে Adreno 710 GPU রয়েছে, যা উন্নত গ্রাফিক্স এবং মসৃণ ভিজ্যুয়াল পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে।

এই স্মার্টফোনটি চারটি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যায়ঃ 

  • 8GB RAM+128GB স্টোরেজ
  • 8GB RAM+256GB  স্টোরেজ
  • 12GB RAM + 256GB স্টোরেজ
  • 12 GB RAM + 512GB স্টোরেজ

ডিভাইসটিতে অত্যাধুনিক LPDDR5 RAM এবং UFS 2.2 স্টোরেজ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে, যা দ্রুত ডেটা ট্রান্সফার এবং মসৃণতা নিশ্চিত করে। তবে এই মডেলে মাইক্রো এ সডি কার্ড সাপোর্ট নেই।

ক্যামেরা

Motorola Edge 50 Fusion এর এর ক্যামেরা ডুয়েল ক্যামেরা সেটআপ দৈনন্দিন ফটোগ্রাফির জন্য উপযুক্ত এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ভালো পারফরম্যান্স প্রদান করে। এর পিকচার কোয়ালিটি, ডায়মানিক রেঞ্জ, ক্যাপচার ক্যাপাবিলিটি সব কিছু মিলিয়ে মিড রেঞ্জের ফোন হিসেবে অনেকটাই উন্নত। এক কথায় তার পূর্ববর্তী মডেল থেকে ক্যামেরায় যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে, যেখানে আগের মোবাইল দিয়ে তোলা ছবিয়ে প্রায়শই হলুদ রঙ এর আধিক্য ছিলো। ছবির কোয়ালিটিও তেমন উন্নত ছিলো না। 

Motorola Edge 50 Fusion  প্রধান ক্যামেরা  50 মেগাপিক্সেল Sony Lytia 700C সেন্সর,  f/1.9 অ্যাপারচার, ১.০ মাইক্রোমিটার পিক্সেল আকার। প্রধান ক্যামেরা দিয়ে ডিজিটালি জুম করে 2x এ ছবি তোলা যায়, যা যা টেলিফটো লেন্সের অভাব পূরণে সহায়ক। তাছাড়া অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন (OIS) সুবিধা রয়েছে, যা ঝাঁকুনি-মুক্ত ছবি ও ভিডিও ধারণে সহায়তা করে। 

প্রধান ক্যামেরা দিয়ে তোলা ছবিগুলোতে রঙ কিছুটা উজ্জ্বল দেখায়, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে। ছবিতে গ্রিন কালার একটু বুস্ট আপ হয়। সার্বিকভাবে ছবি যথেষ্ট ভাইব্রেন্স করে তুলতে সক্ষম হয়। পোর্ট্রেট মোডে ছবি অনেক নেচারাল আসে এবং সাবজেক্ট ডিডেক্ট খুব ভালো । সেখানে ৩ টা ফোকাল লেন্থের অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। ডিফল্ট ব্লার ইফেক্ট অনেক ডেপথ হয়, সেটাকে কমিয়ে দুর্দান্ত পিকচার পাওয়া যায়।  তাছাড়া নাইট ভিশন মোডে রাতের ছবিগুলোও ডিটেইলস সহ  ধারণ করা যায়।

Motorola Edge 50 Fusion এর সেকেন্ডারি ক্যামেরা হিসেবে আছে একটি আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা যা 13  মেগাপিক্সেল সেন্সর যার  f/2.2 অ্যাপারচার, এবং ফিল্ড-অফ-ভিউ 120-ডিগ্রি । এই আল্ট্রা ওয়াইড ক্যামেরা দিয়ে নরমাল একটা ছবির এক্সট্রা অর্ডিনারি লুক দেওয়া যায়। তবে লো লাইটে বা নাইট মোডে আল্ট্রা ওয়াইড সেন্সর দিয়ে খুব ভালো এক্সপোজড পিকচার পাওয়া যায় না। 

আর  সেলফি ক্যামেরা খুবই অসাধারণ পারফরম্যান্স করে যার সেন্সর 32 মেগাপিক্সেল এর,  যা f/2.5 অ্যাপারচার, এবং 0.7 মাইক্রোমিটার পিক্সেল আকার। কোয়াড পিক্সেল প্রযুক্তির মাধ্যমে পিক্সেল আকার 1.4  মাইক্রোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

সেলফি ক্যামেরা ত্বকের রঙ ও বিবরণ সঠিকভাবে তুলে ধরে। তবে, কিছু ক্ষেত্রে ল্যান্ডস্কেপ মোডে পোর্ট্রেট ছবি তোলার সময় বোকেহ ইফেক্ট প্রয়োগে সমস্যা হতে পারে, যা সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে।Motorola Edge 50 Fusion  স্মার্টফোন দিয়ে 4K পর্যন্ত 30fps এ ভিডিও শ্যুট করা যায়। ভিডিও যথেষ্ট কালারফুল এবং জীবন্ত হয়, যা ভালো অভিজ্ঞতা প্রদান করে। ক্যামেরা সেন্সরে OS থাকায় যথেষ্ট স্টেবল ফুটেজ পাওয়া যায়। তবে ল্যান্স শিফটিং এর সময় কিছুটা ল্যাগ থাকতে পারে। আর প্রপার লাইটে এর সেলফি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ ও বেশ প্রাণবন্ত হয়। এক কথায়, ক্যামেরার অভিজ্ঞতা এই বাজেটের মোবাইলে খুব ই ভালো।

AI ফিচার

Motorola Edge 50 Fusion স্মার্টফোনটিকে AI ফিচারগুলি ব্যবহারকারীদের জন্য আরও কার্যকর ও আনন্দদায়ক করে তুলেছে।

এর ম্যাজিক এডিটর ও ম্যাজিক এরেসার ফিচার রয়েছে যা  গুগল ফটোসের মাধ্যমে সরাসরি অ্যাক্সেসযোগ্য এই টুলসগুলি ব্যবহার করে ছবি এডিট ও অবাঞ্ছিত অবজেক্ট সরানো যায়।

তাছাড়া এর জেন-এআই ইমোজি ফিচার রয়েছে যা জেন-এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের পছন্দসই ইমোজিগুলোর বিভিন্ন এক্সপ্রেশন, স্টাইল বা থিম তৈরি করা যায়।

AI ফিচারের অন্যতম সুবিধাভোগ করা যায় ক্যামেরার AI এ। এই ডিভাইসে Moto AI প্রযুক্তি সাপোর্ট করে যা ক্যামেরা সিস্টেম ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন পরিবেশ ও আলোতে উচ্চমানের ছবি তুলতে সহায়তা করে। 

তাছাড়া জেন-এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা তাদের পছন্দসই ইমোজিগুলোর বিভিন্ন এক্সপ্রেশন, স্টাইল বা থিম তৈরি করতে পারেন, যা তাদের ব্যক্তিত্বের সাথে মানানসই।

কানেক্টিভিটি

Motorola Edge 50 Fusion স্মার্টফোন আধুনিক এবং শক্তিশালী ভবিষ্যৎমুখী কানেক্টিভিটি ফিচার দিয়ে সজ্জিত। 

এই ডিভাইসে Wi-Fi 802.11 a/b/g/n/ac ডুয়াল-ব্যান্ড সাপোর্ট রয়েছে, যা দ্রুত এবং স্থিতিশীল ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করে। তাছাড়া এই ডিভাইসে ব্লুটুথ 5.2 রয়েছে যা যা দ্রুত ডেটা স্থানান্তর এবং কম শক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করে। 

এছাড়া, Motorola Edge 50 Fusion ডুয়াল সিম সাপোর্ট  করে, যা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত এবং পেশাদার লাইনের জন্য দুটি সিম ব্যবহার করার সুবিধা দেয়। আবার, দ্রুত চার্জিং এবং ডেটা স্থানান্তরের জন্য ব্যবহৃত হয়  USB Type-C 2.0, OTG । 

 Motorola Edge 50 Fusion তে  NFC সাপোর্ট রয়েছে, যা Google Pay বা অন্যান্য ডিজিটাল ওয়ালেট অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত এবং নিরাপদ কান্ট্যাক্টলেস পেমেন্ট করতে সাহায্য করে। GPS, A-GPS, GLONASS, Galileo, এবং BDS এর সমন্বয়ে এটা নির্ভুল লোকেশন ট্র্যাকিং করতে পারে।

অডিও ভিডিও

এই ডিভাইসে স্টেরিও স্পিকার সিস্টেম রয়েছে, যা উচ্চমানের সাউন্ড প্রদান করে। ডলবি অ্যাটমস প্রযুক্তি ব্যবহার করে চারপাশের শব্দের অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে, যা সিনেমা বা গেমিংয়ের সময় বিশেষভাবে উপকারী। স্পিকার উচ্চ ভলিউমে এমনকি ভয়েস স্পষ্টতা বজায় রাখে; তবে, যারা বেস-সমৃদ্ধ মিউজিক প্লেব্যাক পছন্দ করেন, তাদের জন্য কম ফ্রিকোয়েন্সি আউটপুট কিছুটা কম হতে পারে। তবুও, স্মার্টফোনে সিনেমা বা টিভি শো দেখার জন্য স্পিকারগুলি একটি ভালো উপায়। 

তবে, মোবাইল টি অতিরিক্ত স্লিম হওয়ায় হেডফোন জ্যাক নেই, তাই ওয়্যারলেস ইয়ারবাড বা USB-C অ্যাডাপ্টারের মাধ্যমে হেডফোন ব্যবহার করতে হবে

এর ভিডিও প্লে ব্যাকের অভিজ্ঞতা ব্যবহারকারীদের জন্য খুব ই উন্নত। এর ডিসপ্লে 

144Hz রিফ্রেশ রেট এবং 1,600 নিট পর্যন্ত উজ্জ্বলতা সাপোর্ট করায় তা ভিডিও প্লেব্যাকের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এই উচ্চ উজ্জ্বলতা এবং দ্রুত রিফ্রেশ রেটের সমন্বয়ে, ব্যবহারকারীরা ভিডিওগুলি মসৃণ এবং জীবন্তভাবে উপভোগ করতে পারেন। তবে HDR সাপোর্ট না থাকায় উচ্চ মানের কন্টেন্ট গুলো দেখতে কিছুটা সমস্যা হতে পারে।

সিকিউরিটি

Motorola Edge 50 Fusion-এর সিকিউরিটি সিস্টেম ব্যবহারকারীদের ডেটা সুরক্ষা এবং প্রাইভেসি নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। উল্লেখ্য,  মটরোলা তার Motorola Edge 50 Fusion স্মার্টফোনে চার বছরের নিরাপত্তা প্যাচ প্রদান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে, যার কারণে এটি আরো সিকিউরিটি আপডেট পাবে এবং ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা প্রদানে আরো শক্তিশালী হবে।

Motorola Edge 50 Fusion স্মার্টফোনে রয়েছে Moto Secure ফিচার যা  ব্যবহারকারীদের নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি পরিচালনা, অ্যাপ পারমিশন নিয়ন্ত্রণ এবং সংবেদনশীল ডেটার জন্য সিক্রেট ফোল্ডার তৈরি করার সুবিধা দেয়।

তাছাড়া এতে রয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর। এতে  ডিভাইসের নিচের স্ক্রিনে অবস্থিত অপটিক্যাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর দ্রুত এবং নিরাপদ লক আনলকিং নিশ্চিত করে। তবে অবশ্যই তখন পূর্ণ আলোর দরকার হয়। এতে রয়েছে ফেস আনলক সিস্টেম যা  ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং  ডিভাইসটি ব্যবহারকারীর মুখ শনাক্ত করে, যা দ্রুত এবং সুবিধাজনক লক আনলকিংয়ের সুযোগ দেয়।

ব্যাটারি এবং চার্জিং

Motorola Edge 50 Fusion-এর ব্যাটারি পারফরম্যান্স ব্যবহারকারীদের জন্য সন্তোষজনক, বিশেষ করে যারা দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি লাইফ এবং দ্রুত চার্জিং সুবিধা চান। এই অতিরিক্ত পাতলা ডিভাইস সত্ত্বেও এটি একটি শক্তিশালী ব্যাটারি অফার করে। 

Motorola Edge 50 Fusion-এর 5,000mAh ব্যাটারি ব্যবহারকারীদের জন্য দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি লাইফ প্রদান করে। মটোরোলা দাবি করে যে, ফিউশনটি 30 ঘণ্টার বেশি ব্যাটারি লাইফ দিতে সক্ষম। ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, হালকা ব্যবহারে এই দাবি প্রায় সঠিক, তবে মাঝারি থেকে ভারী ব্যবহারে ব্যাটারির স্থায়িত্ব কিছুটা কম হতে পারে। যেমন, ভিডিও স্ট্রিমিং, গেমিং এবং মাল্টিটাস্কিংয়ের মতো কার্যক্রমে ব্যাটারি দ্রুত কমতে পারে। তবে, সাধারণ ব্যবহারে ফিউশনটি সারাদিনের জন্য যথেষ্ট ব্যাটারি লাইফ প্রদান করে। ভারী ব্যবহারে 6+ ঘন্টা সময় পর্যন্ত এটা ব্যাক আপ দিতে সক্ষম। কোন ক্ষেত্রে আবার দিন শেষে চার্জ দিলে ও চলে। 

ফিউশনটি 68W দ্রুত চার্জিং সাপোর্ট  করে, যা প্রায় 15 মিনিটে 40% চার্জ, 40 মিনিটে 80% এবং 1 ঘণ্টায় সম্পূর্ণ চার্জ করতে সক্ষম। তবে এতে ওয়ারলেস চার্জিং এর কোন ব্যবস্থা দেওয়া নেই।

প্রাইসিং

Motorola Edge 50 Fusion একটি সাশ্রয়ী মূল্যের মোবাইল ফোন। এটা বর্তমানে  তিনটি ভেরিয়েন্টে পাওয়া যায় (128/256/512GB/8/12GB RAM)। 

50 Fusion এর দাম বাংলাদেশে 32000 টাকা মাত্র। এটি নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে বেশ উত্তেজনা ও আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। বলা যায় বর্তমানে এটি একটি হাইপড মোবাইল যা বৈশিষ্ট্য ও মূল্যের কারণে মিড-রেঞ্জ সেগমেন্টে একটি আকর্ষণীয় পছন্দ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে এর মূল্য  পাইকারী ও খুচরা বিক্রয়ের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে। তাছাড়া বিভিন্ন ই-কমার্স সাইট এবং অফার অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। যেহেতু এই সকল স্মার্ট ফোনের মূল্য বাড়ে/কমে ,সুতরাং ক্রয় করার আগে বিশস্ত ওয়েবসাইটে এর ফিচার ও মূল্য তালিকা দেখে নেওয়া উচিত।

রেকমেন্ডেশন

Motorola Edge 50 Fusion একটি  সাশ্রয়ী মূল্যের স্মার্টফোন যা দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি এবং উন্নত ক্যামেরা ফিচার সরবরাহ করে। এর বিল্ড কোয়ালিটি অনুসারে একে একটু চিপ মনে হতে পারে বা লং রানে এতো টা টেকসই হয়তো হবে না, এই দুটো বিষয় কে সেক্রিফাইস করলে আর যে সকল বৈশিষ্ট্য রয়েছে তা দামের তুলনায় মানে অনেক বেশি ভালো বলা যায়। সাধারণত ফ্ল্যাগশিপ মোবাইলে যে রকম বাজেটে উন্নত ফিচার পাওয়া যায়, তা এই মিড রেঞ্জের মোবাইল Motorola Edge 50 Fusion তাদের থেকে কম কিছু না। বরং দামের তুলনায় এর ডিসপ্লে, ক্যামেরা পারফোরম্যান্স এর দিকে আসলেই একটি অসাধারণ ফোন। সর্বোপরি, যারা ফ্ল্যাগশিপ মূল্যের ফোন না কিনে নির্ভরযোগ্য এবং ভাল ফিচারযুক্ত একটি ডিভাইস চান, তাদের জন্য Motorola Edge 50 Fusion একটি চমৎকার পছন্দ।


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *